একটি স্ট্যাটাস ও ফাহিম-সৌরর হাড্ডিযুক্ত গরুর মাংস

স্ট্যাটাস দিলে খাবার মেলে।

14408778_10153950328280318_852966772_n

এটা এই ছবির ক্যাপশন। তবে ক্যাপশনটা একটু ব্যাখা দাবি করে। এই কোরবানী ঈদের একদিন পরে হাড্ডিযুক্ত গরুর মাংস না খেতে পারার বেদনা নিয়ে আমি একটি চোখ ছলছল স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ফেসবুকে। সেই স্ট্যাটাসটা ছিল, “ধুরো কোন মানে হয়, খুব কোরবানির মাংস খাওয়া মিস করছি। চোখ বন্ধ করলে গতকাল থেকে একটাই ছবি দেখছি, বাটি ভর্তি হাড্ডির সাথে লাগানো মাংস ঝিলিক মারছে।

আম্মাগো, সব ফ্রিজে ঢুকায়া রাখ। আমি আসতেছি! সবাইরে বিলায়ে শেষ কইরা ফেলো না।”

এই স্ট্যাটাস পড়ে আমাদের প্রিয় Fahim ইনবক্সে মেসেজ পাঠিয়েছে, সিমু ভাই আপনার স্ট্যাটাস পড়ে হেচকি দিয়ে কান্না আসছে গতকাল থেকে। থামছেই না। এদিকে আবার রাতে স্বপ্ন দেখছি, আপনাকে হাড্ডিঅলা গরুর মাংস না খাওয়াতে পেরে আমি বিভিন্ন জায়গায় কাবাব মে হাড্ডি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমাকে বাঁচান সিমু ভাই। আমি কাবাব মে হাড্ডি হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না।

ইনফ্যাক্ট ফাহিমের জীবন রক্ষা করতেই আমি আর Sabhanaz গতকাল রাতে প্যালো আলটোতে ফাহিমের বাসায় গিয়ে হাজির হলাম। গিয়ে দেখি তার বাসার দরজা হাট করে খোলা। রান্নাঘরের টেবিলে ডাল ডিম রান্না করে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা। কিন্তু কোথাও কেউ নাই। না ফাহিম না Sauro

ফোন দিলাম ফাহিমকে। ফোনের অপরপ্রান্তে সে ভয়াবহ উত্তেজিত, আর বইলেন না সিমু ভাই, আমি তো বুঝি নাই আমেরিকান গরু অশিক্ষিত, তাই তাদের কোন ব্যাকবোন নাই, হাড্ডিও নাই। বাসায় আইসা দেখি ব্যাটায় যে গরুর মাংস দিছে সেইটায় কোন হাড্ডি নাই। কিন্তু আজকের তো আমাদের হাড্ডি খাওয়ার দিন। আমি গরুর মাংস পাল্টাইতে আসছি।
: কিন্তু তুমি আসবা কখন?
: ঠিক নাই সিমু ভাই। মনের মতো হাড্ডিঅলা গরুর মাংস না পাইলে আর নাও ফিরতে পারি। আমারে ক্ষমা কইরা দিয়েন।

লং স্টোরি শর্ট। বিকাল চারটায় ফাহিম এলো গরুর মাংস নিয়ে। না খেয়ে বসে থেকে এরপর আমরা রাধুনি মেজবান মাংসের প্যাকেটের গায়ে লেখা প্রস্তুত প্রণালী পড়ে যা একখান গরুর মাংস রাধলাম। আহা! কী ঘ্রাণ! কী টেস্ট! গরুটা বেঁচে থাকলে সে নিজেই নিজের মাংস খেয়ে মুগ্ধ হয়ে যেত।

মাংসের গন্ধে এর মাঝে কোথা থেকে জানি আরও দুই বন্ধু নিয়ে হাজির হলো সৌর। ভরপেট খেয়ে আমরা আর কেউ নড়তে পারছি না। পেট খালি করার জন্য আমরা সবাই হাঁটতে বের হলাম। হাটতে হাটতে অনেক আজগুবি গল্প শোনালো আমাদের সৌর আর ফাহিম। তাদের বাসার পেছনে যে জলহীন খাল সেটা দিয়েই নাকি ক্রিস্টোফার কলম্বাস কয়েকশ বছর আগে আমেরিকা আবিস্কার করেছিল। সেই আবিস্কার না হলে আমরা আসতাম না…গরুর মাংসও পাইতাম না…গরুতেও হাড্ডি থাকতো না…কোলেস্টরেল…ইত্যাদি ইত্যাদি। এরই মাঝে সৌর তার এক মজার ইচ্ছার কথা জানালো…বুঝছেন সিমু ভাই, আমার আল্টিমেট লক্ষ্য আমি চাঁদে যাইতে চাই।
: কেন সেখানে যাইতে হবে কেন?
: কাহিনী আছে। আমার বাবা জন্মাইছেন গ্রামে। এরপর গ্রাম থেকে উনি ঢাকায় এসে বসবাস করেছেন। এরপর ঘুরতে এসেছেন আমেরিকা। তিনি আমারে বলছেন, শোন সৌর তোকে আমার থেকে একধাপ এগিয়ে থাকতে হবে। তুই গ্রামের বদলে জন্মাইছিস ঢাকায়, এইবার তোকে বসবাস করতে হবে আমেরিকায় (আমি এখন আমেরিকায় বসবাস করি) আর ঘোরার জন্য তোরে যাইতে হবে চাঁদে। তাই আমার চাঁদে যাওয়া ছাড়া গতি নাই।

আমি আঙ্কেলের যুক্তিতে মুগ্ধ হয়ে বললাম, সৌর তোমার অবশ্যই চাঁদে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। আমার একজন পরিচিত আছে যে বান্দরবানের চাঁদের গাড়ির মালিক। সেইটা না পোষাইলে সরাসরি অ্যালন মাস্কের সাথে যোগাযোগ করে স্পেসএক্সে করে মঙ্গলে চলে যাও। তাতে তোমার বাবারেও একটা সারপ্রাইজ দেওয়া হবে।

এসব কথা বলতে বলতে আমরা চলে এসেছি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এই বিশ্ববিদ্যালয়েকে আমি চিনি স্টিভ জবসের স্টে হাংরি ভাষণ দিয়ে। তার সেই বিখ্যাত ভাষন আমি অনেক আগে বাংলায় ভাষান্তর করেছিলাম। তখনই এর নাম জানি। যাই হোক, স্ট্যানফোর্ডের ভেতরের গির্জার সামনে এসে দেখি এক মেয়ে চোখ বন্ধ করে প্রার্থণা করছে। আমি সৌরকে বললাম, বুঝছ সৌর, পরীক্ষা খারাপ হইলে পৃথিবীর সবাই আসলে ধর্মীয় লাইনে চলে আসে। বাংলাদেশে তাবলীগ সবচেয়ে জনপ্রিয় পরীক্ষার রেজাল্টের আগে আগে।

…যাই হোক অনেক ধন্যবাদ সৌর আর ফাহিম। দারুন খাবারের জন্য। আচারের জন্য। ফাস কেলার কফির জন্য।

আর হা, যারা এতক্ষন এই স্ট্যাটাস পড়লেন তারা আরও বেশি বেশি করে এই দুইজনের মিলিয়ন ডলার প্রতিষ্ঠান http://www.backpackbang.com থেকে বেশি বেশি জিনিস কিনুন। তাদের কোটিপতি হওয়ার পথে আপনার মাউসের ক্লিক বাড়িয়ে দিন। তাহলে আমাদের কপালে আরও বেশি করে হাড্ডিঅলা গরুর মাংস জুটবে।

কেউ আমিন না বলে যাবেন না।

Advertisements