রেডিওতে যে তিনটি গান শুনতে শুনতে মাথা খারাপ হয়ে গেল

আমেরিকানদের রেডিও শোনার ব্যাপারটা এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারি নাই। তারা খুব একটা সিরিয়াসলি রেডিও শোনে বলে মনে হয় না। ইউটিউব, স্পটিফাই অ্যাপের যুগে এখন পর্যন্ত কাউকে কানে হেডফোন দিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে রেডিও শুনতে দেখি নাই। কাউরে রেডিও নিয়ে আলাপও করতে শুনি নাই। গাড়ি চালানোর সময় যেইটায় ভালো মিউজিক বাজে সেইটা দিয়ে রাখে অনেক সময় (যখন উবার করি তখন দেখছি)।

গত ১০-১৫ দিনে দুই স্পেলে আমি দুইবার গাড়ি ভাড়া করলাম চারদিনের জন্য। নতুন বাসা খোঁজা, স্যান ফ্রান্সিসকোতে দাওয়াত খেতে যাওয়া আর এদিক সেদিকের জন্য গাড়ি বেশ কাজে দিয়েছে। কিন্তু গাড়িতে উঠে রেডিও দিয়ে একই গান শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা। অল্প বিস্তর বিজ্ঞাপন আর আজাইরা কথাবার্তার মাঝখানে কেন সারাদিন তারা এই তিনটা গান এত বেশি বাজায় এটা নিয়ে আমার আর দিয়ার মনগড়া গবেষণার ফলাফল হলো–এই কয়েকটা লোকাল রেডিও স্টেশন যার-তার গান বাজাতে পারে না। গান বাজানোর আগে নিশ্চয়ই তাদের উচ্চমূল্য দিয়ে গান কিনতে হয়। যেহেতু এরা একটু গরীব রেডিও তাই তারা মাত্র তিনটা গান কিনতে পেরেছে বাজানোর জন্য।

এই সব নিয়ে আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে এইসব লোকাল রেডিও জন্য একটু মায়াই হইলো। তবে কাজের কাজ হইলো এই গান তিনটা একদম মুখস্ত হয়ে গেছে। গানগুলো কিন্তু শুনতে খারাপ না। খারাপ হইলেও আমার শুনতে শুনতে পছন্দ হয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি যে গানটা বাজে সেটা হলো সিয়া নামক এক শিল্পীর (এর নাম আমি এর আগে জীবনেও শুনি নাই) ‘চিপ থ্রিলস’। গানের কথার অনুবাদ করলে যা হয়–আরে কই তুমি, আস আস আজকে শুক্রবার রাত, এটা বেশি লম্বা রাত না…আমার কাছে ট্যাকাপয়সা নাই…তবে লাগবেও না যদি তোমাকে পাই বেইবি।…আজকে রাতে আনন্দ করার জন্য আমার টাকা পয়সার প্রয়োজন নাই, (কোরাসে : আমি সস্তা উত্তেজনা ভালোবাসি) আজকে রাতে আনন্দ করার জন্য আমার টাকা পয়সার প্রয়োজন নাই…(কোরাসে : আমি সস্তা উত্তেজনা ভালোবাসি)!

দ্বিতীয় যে গানটা বেশি বাজে সেটা টোয়েন্টি ওয়ান পাইলট নামের এক আমেরিকান ব্যান্ডের। গানের নাম ‘রাইড’। গানের মূল যে লাইন সেটা হলো…ওও ঔ আমি পড়ে যাচ্ছি, এইজন্য আমি এই যাত্রায় বেশি সময় নিচ্ছি…।

আমি পড়ে যাচ্ছি মানে ‘আয়াম ফলিং’ তারা এমনভাবে গায় যে শুরুতে আমি বেশ কয়েকদিন ভাবছি যে গানটা বুঝি ‘আয়াম বোরিং’। কিন্তু খটকা ছিল মনে, বোরিং মানুষ এইটা এত চনমনে আর ফুর্তির টানে কেন গাইবে। যাই হোক, এইটা আমার বেশ প্রিয় একটা গান এখন। মজার ব্যাপার হলো ইউটিউবে ‘আই এম বোরিং’ লিখে সার্চ দিলেও কিন্তু এই গানটা আসে। তার মানে কি আমার মতো আরও অনেকেই ভুল শুনে সার্চ দিয়েছে?

তৃতীয় যে গানটা বেশি বাজে সেটা চার্লি পু (নাকি পুথ Chrlie Puth) নামের এক আমেরিকান গায়কের ‌’উই ডোন্ট টক এনিমোর’। এই গানটা একটা ব্রেকআপ পরবর্তী গান। তবে একদম ব্রেক আপের সাথে সাথেরই না–অন্তত এক দুই মাস পরের। গানের বাংলা হবে অনেকটা এ রকম–আমরা আর কথা কই না একে অপরের সাথে, যে রকম আগে কইতাম সারাদিন। আমরা আর ভালোবাসি না আগের মতো, তাইলে ওইগুলা আসলে কী ছিল…শুনলাম তুমি নাকি এখন আরেক পোলার সাথে ঘুইরা বেড়াও…তুমি ক্যামনে পার ম্যান? আমি কেন তোমারে ভুইলা আরেকটা প্রেম করতে পারি না…এইসব কথা বার্তার মাঝে সিনে আসে সেলিনা গোমেজ। সে এইবার জবাব দেয়, আমি আশা করি তুমি এমন কারও পাশে শুইয়া থাকবা যে তোমারে ভালোবাসবো আমার মতো করেই…।

সুরটা চনমনে। আর এই গান দেখলাম এই বছরের মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে রিলিজ হওয়ার পর বিলবোর্ড টপচার্টের ১০ নাম্বারে আছে। আর ইউটিউব হিটও ভয়াবহ। আমার তো দারুন লাগে! চার্লি সম্পর্কে একটা তথ্য রেডিওতেই শুনছিলাম, তার কোন একটা ভুরু নাকি ছোটবেলায় তার পালা কুত্তা খেয়ে ফেলছিল। এখন সে ‘ড্যামেজড’ একটা ভুরু নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কী লাইফ চেইঞ্জিং একটা তথ্য না!

আমেরিকান গানের আসর আজকের মতো এখানেই শেষ।

বার্কলি/ক্যালিফোর্নিয়া/১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬/ বেলা সোয়া ১টা

Advertisements