রিক-রোজানের বাংলাদেশ প্রেম ও শুভ জন্মদিন

7044_10153049039770318_7283426453004142290_n
জঙ্গলে ঘাস নাই, বনে বাঘ নাই, রাস্তা ফ্রি নাই, কলে পানি নাই, পার্কে গাছ নাই, বাজারে মনের মতো কাজ নাই… এমন নানাবিধ নাই নাই এর ভীড়ে আমাদের অবস্থা কাহিল। অনেকে এসব সহ্য করতে না পেরে নদী পথে মালয়েশিয়া বা শাহজালাল এয়ারপোর্ট হয়ে ইউরোপ, আম্রিকা চলে যাচ্ছেন।

rossane-1দেশের এহেন ক্রান্তিকালে সুদূর নেদারল্যান্ডস থেকে দুই তরুন দম্পত্তি এলো এই শহরে। যখন এলো তখন দেশের এক কঠিন সময়। ২০১৫ সালের শুরু। তখন লাগাতার অবেরোধ আর বাসে পেট্রোল বোমার উৎসব। কিন্তু এর মধ্যেই দীর্ঘদিন আমাদের বাসায় থেকে ঘুরে ফিরে দেখলো তারা এই শহর, শহরের মানুষ। রিস্ক নিয়ে চষে বেড়াল সেন্টমার্টিন, সিলেটসহ নানা জায়গা। মুগ্ধ হয়ে গেল দেশের মানুষের আতিথেয়তায়।

ঢাকা আর বাংলাদেশের প্রেমে পড়ে তারা এখন আর নিজের দেশে ফিরে যেতে চায় না। জীবিকার জন্য এখানেই শুরু করেছে ব্যবসা। নিজ দেশে বাবা-মার বিশাল আলু আর ঘোড়ার ব্যবসা ছেড়ে তারা পরিকল্পনা করছে ঢাকার মিরপুরের দিকে একটা ছোট্ট ফ্লাট কেনার। কয়েকদিন আগে তাদের বাবা-মা এসে ঘুরে গেছে বাংলাদেশ।

1506933_10206079851384410_6071531474527208697_nআমার গত জন্মদিনে এই জুটি আমাকে একটা ডার্টবোর্ড উপহার দিয়েছিল। এরপর কত রাত গেছে এক সাথে ডার্ট ছুড়ে। নিজেরা নিজেরাই কত যে নিয়ম বের করেছি খেলার। হেরে যাওয়ার ব্যথায় মন খারাপ করেছি, জেতার আনন্দে হাইফাইভ।

গত সপ্তাহে ছিল ঝাকড়া চুলের রিক নামের এই তরুণের ২৪তম জন্মদিন। সেদিনের জন্মদিনের উৎসবে এই ছবিটি তোলা। আর এই ছবিটি এখানে দিয়ে এতো কথা বলার উদ্দেশ্য হলো, যারা দেশকে নিয়ে হতাশ হয়ে যাচ্ছেন, এই দেশের কিচ্ছু হবে না বলে হা হুতাশ করছেন, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের বলা যে, এই দেশের সম্ভাবনা বিশাল। এই দেশের হবে। চারদিকে এতো সুযোগ খালি ঠিক মতো নিজের কাজটা করতে পারলেই হবে। ভিনদেশি এক তরুণ-তরুণী যদি নিজের দেশের আরাম আয়েশ ছেড়ে এই শহরে এসে পারে তাহলে আপনি পারবেন না কেন?

Advertisements