হ্যামিলিনে বাংলার বাঁশি ও বাঁশিওয়ালা!

rhein-palais-bonn-01-large

অপরূপ সুন্দর বন শহরে কেটেছে আমার আনন্দের কিছু দিন

টানা দেড় মাস ইউরোপের আটটা দেশ রাতদিন চষে বেড়িয়ে ক্লান্ত শরীরে মাত্রই থিতু হয়েছি জার্মানির বন শহরে। উদ্দেশ্য বন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বন্ধুর বাসায় সপ্তাহ খানেক থেকে এবার একটু আরাম-আয়েশ করব। তারপর কেটে রাখা টিকিটের প্লেন ধরে ঢাকায় ফিরে যাব।

cologne_cathedral_rhine_river_bridge_germany_koln_dom

হাজার বছরের পুরোনো কোলন ক্যাথেড্রাল

বাসা থেকে একটু দূরেই হাজার বছরের পুরোনো কোলন গির্জা। এত বছর পরেও যার নির্মাণকাজ নাকি শেষই হয়নি। ঢং ঢং ঘণ্টার সঙ্গে নীল আকাশের নিচে ছড়িয়ে পড়া তার অপরূপ সৌন্দর্য, রাইন নদীর পাড়ে উচ্ছল তরুণ-তরুণীদের নাচে-গানে মুখরিত অনুষ্ঠান, খেলার মাঠে কিশোর-কিশোরীদের জার্মান ভাষার কলকাকলি—এসব দেখতে দেখতে দ্বিতীয় দিনের মাথাতেই গালে হাত দিয়ে ভাবি কবে ঢাকায় ফিরব। সন্ধ্যা ঘনালেই তাই সাইকেল নিয়ে উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়াই বন শহরের অলিগলিতে। খিদে পেলে বসে যাই রেস্তোরাঁর বাইরের ছাউনি দেওয়া টেবিলে। অজানা উদ্ভট নামের খাবার অর্ডার দিয়ে উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করি—টাকাটা জলে যাবে নাকি যাবে না।

thai-restaurant-in-cologne

ইউরোপের বিভিন্ন শহরে আমার প্রিয় জায়গা রেস্তোরার এই বাইরে বসার অংশ

এমনই এক সন্ধ্যায় হাতের মোবাইলে গুগল ম্যাপ ঘাঁটতে গিয়ে একটা নাম খুব পরিচিত ঠেকল—হ্যামিলিন। খাবারের অপেক্ষায় অলস বসে থাকা পাশের এক প্রৌঢ় দম্পতিকে জিজ্ঞেস করি, এই কি সেই হ্যামিলিন, যে শহর বিখ্যাত তার মেয়র, বাঁশিওয়ালা, ইঁদুর আর শিশুদের হারিয়ে যাওয়ার গল্পে, ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে পড়া গ্রিম ভাইদের লেখায়? পরে যেটা নিয়ে কবিতা লিখেছেন ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং। তাঁরা মাথা নেড়ে জানালেন, ‘ঠিক ধরেছ। তবে জায়গাটার নাম হ্যামিলিন না, হ্যামলন’ বলে হ্যামিলিন শব্দটার এমন এক অদ্ভুত জার্মান উচ্চারণ করলেন, যেটা অনেক চেষ্টা করেও আয়ত্তে আনতে পারলাম না। তবে তখনই ঠিক করে ফেললাম হাতে যেহেতু আরও তিন-চার দিন আছেই, তাহলে এমন একটা জায়গা না দেখে যাওয়া অন্যায়ই হবে।

বাসায় ফিরে বন্ধু মারুফকে পটালাম, ‘আরে এমন রোমাঞ্চকর একটা জায়গা আমাদের ঘর হইতে মাত্র দুই পা ফেলিয়া আর আমরা যাচ্ছি না এখনো। চলেন কালই সেখানকার একটি ধানের শিষের ওপর একটি শিশির বিন্দু দেখে আসি।’ উনি অনেকক্ষণ ম্যাপ-ট্যাপ ঘেঁটে কাব্যের ধারেকাছে না গিয়ে গম্ভীর গলায় জানালেন, জায়গাটা মোটেও দুই পা ফেলা দূরত্বে নয়। টাকা বাঁচিয়ে ট্রেনে যেতে চাইলে মোটামুটি এক দিন লেগে যাবে। ততক্ষণে ঘাসের শিশির শুকিয়ে যাবে। আমি খুঁজে বের করে ফেললাম, বন টু হ্যামিলিনের রাস্তায় হ্যানোভার বলে যে জায়গাটা, সেখানে আমার আরেক পরিচিতজন থাকেন, প্রথম আলোর প্রতিনিধি সরাফ আহমেদ। তাঁর বাসায় একটা যাত্রাবিরতি নিয়ে যদি এক দিনের রাস্তাকে দুই দিনের বানানো যায়, তাহলে আর হ্যামিলিনে গিয়ে থাকার হোটেল খুঁজতে হয় না, টাকাও বাঁচে।

Image-11-E-L-Hoskyn-Stories-of-Old-The-Pied-Piper-of-Hamelin-No.9-Map-of-Germany-by-Lilian-Tennant-Lancasterপরদিনই বন থেকে দুপুর নাগাদ রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় পৌঁছে গেলাম হ্যানোভারে। রাতটা কাটালাম সরাফ ভাই আর তাঁর স্ত্রী লিপি আপার আতিথেয়তায়। ঘুম ভাঙতেই তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিয়ে চেপে বসলাম হ্যামিলিনের ট্রেনে। বেশ কয়েকবার ট্রেন অদলবদল করে দুপুর নাগাদ যখন পৌঁছালাম হ্যামিলিন নামের ছোট্ট স্টেশনটায়, অন্তত ১০ মিনিট শুধু তাকিয়েই থাকলাম নীলের মধ্যে সাদায় ‘হ্যামিলিন’ লেখা সাইনবোর্ডটার দিকেই। নানান অ্যাঙ্গেল থেকে নিরেট সেই বস্তুটার ছবিও তুললাম গোটা বিশেক। আহ্, এই সেই হ্যামিলিন, সেই ছোট্টবেলায় যখন গ্রিম ভাইদের রূপকথায় পড়েছি, তখন একবারও মনে হয়নি, এই শহর বাস্তবে থাকতে পারে। রূপকথার ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমি আর দৈত্যদানোর মতো একেও ভাবতাম কল্পনার এক শহর। এটা কখনো হয় নাকি যে বাঁশির সুরের সমঝদার হবে ইঁদুর। আর এমন মানুষও থােক নাকি, যে শুধুই প্রতিশোধের নেশায় মেরে ফেলতে পারে এতগুলো ফুটফুটে শিশুকে।

86bbc144c00c30bc2b3dfa952ebfa954-8

প্রতিবছর মঞ্চস্থ হয় ইঁদুর আর বাঁশিওলার এই নাটক

যতই শহরের মধ্যে যেতে থাকলাম, নিজেকে মনে হতে থাকল মিডনাইট ইন প্যারিস সিনেমার সেই নায়কের মতো, যার আশপাশে ঘুরে বেড়ায় বিখ্যাত মৃত চরিত্রেরা। যেদিকেই তাকাই, সেদিকেই ইঁদুর, না হয় সেই বাঁশিওয়ালার ছবি, পোস্টার আর মূর্তি। পার্কে, রাস্তার মোড়ে, ভবনের দেয়ালে শুধু ইঁদুর আর ইঁদুর। আশপাশে ছোটখাটো অসংখ্য ভবনের নাম ‘র্যাটেনহাউস’, মানে ইঁদুর ভবন। বিশেষ কিছু স্পটে বাঁশিওয়ালা সেজে মনের সুখে বাঁশি বাজিয়ে চলছে মধ্য বয়স্ক কিছু মানুষ।

galerie_hameln_03

শহরের ‍বুক চিরে চলে যাওয়া ভেজা নদী

শহরের বুক চিরে চলে গেছে যে ‘ভেজা’ নদী, সে নদীতেই নাকি বাঁশির সুরে আত্মাহুতি দিয়েছিল শহরের সব ইঁদুর। সেই নদীর পাড় ধরে একটা চক্কর মেরে টুরিস্ট ম্যাপ ধরে ঘুরতে ঘুরতে চলে এলাম গল্পের বিখ্যাত মেয়র ভবনে। পাঁচতলা সেই ভবনের স্থাপত্যরীতি দেখে আপনার বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করবে যে এটি পাঁচ-সাত শ বছর আগের ভবন। এই ভবনেই মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল রঙিন পোশাকের সেই বাঁশিওয়ালা, যেখানে বসে কথার বরখেলাপ করেছিলেন বলেই হারিয়ে গিয়েছিল শহরের ফুটফুটে শিশুরা। একজন গাইড জানালেন, এই যে হাতের ডানে যে গলিটি দেখতে পাচ্ছেন, এই গলি ধরেই অদ্ভুত সুরের টানে বেরিয়ে পড়েছিল শিশুরা। আমি অনেক দূর হেঁটে এলাম সেই গলি ধরে। দুই পাশে অসংখ্য বাসা। আমাদের পুরান ঢাকার গলির মতোই, তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। মিনিট পনেরো হেঁটে সেই গলির কোনো আগা-মাথা না পেয়ে ফিরে এলাম আগের জায়গায়। ম্যাপ দেখে জানলাম, গলিটি চলে গেছে একদম শহরের বাইরে, পাহাড়ের ওপারে।

acf91cd2909a80ae5e5f5270b9060747-10

শহরজুড়ে দেখা মিলবে এমন নানা আকৃতির বাঁশিওলার ভাস্কর্

রূপকথার গল্প লেখক গ্রিম ভাইদের কারণে হ্যামিলিন জনপ্রিয় বলে সবাই একে রূপকথা হিসেবেই জানে। তবে রেস্টুরেন্টের এক মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, এই শহরের সবারই বিশ্বাস, সত্যি সত্যিই আজ থেকে ৭২৯ বছর আগে তাঁদের শহর থেকে ১৩০টি শিশু হারিয়ে গিয়েছিল চিরতরে। হ্যামিলিনের সবচে প্রাচীন নথি পাওয়া যায় ১৩৮৪ সালের। সেই নথিতে লেখা, ‘আজ থেকে ১০০ বছর আগে, আমাদের সন্তানেরা হারিয়ে গেছে।’ শহরের এক টাউনহলের ফলকে জার্মান আর ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখা আছে, ‘খ্রিষ্টের জন্মের ১২৮৪ বছর পর, হ্যামিলিন থেকে ১৩০টি শিশুকে ধরে নিয়ে যায় এক বাঁশিওয়ালা।’ ১৫৫৬ সালে তৈরি হ্যামিলিনের এক গেটের ফলকে লেখা, ‘সেই জাদুকর ১৩০টি শিশুকে এই শহর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ২৭২ বছর পর এই গেটটি নির্মিত হলো।’ এ ছাড়া হ্যামিলিনের মেয়রের নির্দেশে শহরের গির্জার জানালায় সেই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে বেশ কিছু ছবি আঁকা হয় ১৫৭২ সালে।

 

DSC01708

মেয়র ভবনের সামনে আমি

এসব দেখে-টেখে বিশ্বাসই করতে ইচ্ছে হলো যে ‘হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা’ ছেলেভোলানো কোনো রূপকথার গল্প নয়। গাইড আরও জানালেন, হ্যামিলিনে কোনো এক দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সে ব্যাপারে নিঃসন্দেহ ঐতিহাসিকেরা। কিন্তু কী ঘটেছিল, তা নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ আছে ইতিহাসবিদদের মধ্যে। রহস্য সমাধানে তৈরি হয়েছে একাধিক তত্ত্ব। এর মধ্যে একটি প্লেগ তত্ত্ব। একসময় ইউরোপে বুবোনিক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ইঁদুর মরতে শুরু করেছিল। এতে ইউরোপে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে মহামারির মতো। মারা যায় হাজার হাজার মানুষ। এই রোগকে বলা হতো ব্ল্যাক ডেথ। অনেকের ধারণা, এই মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে হ্যামিলিনের ওই শিশুগুলো মারা গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাঁশিওয়ালাকে মৃত্যুর প্রতীক হিসেবে আনা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, সে সময় প্লেগে হ্যামিলিনের অধিকাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছিল। ছোঁয়াচে এ রোগ থেকে বয়স্করা বাঁচতে শিশুদের শহর থেকে বের করে দিয়েছিলেন কিংবা তাদের পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। পরে প্লেগ রোগকে বাঁশিওয়ালার প্রতীকী রূপ দেওয়া হয়েছে।

DSC01735

এই গলিপথ দিয়েই শেষবারের মতো চলে গিয়েছিল শিশুরা?

হ্যামিলিনের এখনকার ‘মেয়র’ বেশ তৎপর শহরের ঐতিহ্য রক্ষায়। প্রতিবছর গ্রীষ্মে অসংখ্য নাটক, সিনেমা ও গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন তাঁরা। আমরা সেসব মিস করলাম অল্পের জন্য।

তবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছিল শহরের অফিশিয়াল পর্যটক ভবনে। টুকটাক কিছু স্যুভেনির কিনতে ভবনে ঢুকতেই স্বাগত জানাল হাস্যমুখের এক তরুণী। ঘুরে ঘুরে সে দেখাল সস্তায় এখানে কী দারুণ দারুণ স্যুভেনির পাওয়া যায়। ইঁদুর মার্কা ঘড়ি, কলম থেকে শুরু করে কী নেই। টি-শার্টের প্রতি আমার বরাবরেরই লোভ। হ্যামিলিন লেখা ইঁদুরের ছাপ দেওয়া ধূসর রঙের একটা টি-শার্ট হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখি, দাম প্রায় আকাশছোঁয়া। বাংলাদেশি টাকায় তিন হাজার টাকার কাছাকাছি। সস্তাই বটে! লেবেল ওল্টাতেই দেখলাম সেখানে লেখা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। আমি উত্তেজনায় টি-শার্ট হাতে দৌড়ে গেলাম সেই তরুণীর কাছে। বললাম, দেখো দেখো, তোমাদের এই টি-শার্ট তো আমাদের দেশেই তৈরি। মেয়েটি লেবেল উল্টে দেশের নাম দেখে বলল, আরে, তোমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছ? সে তো অনেক দূর। যাও তোমাদের জন্য এই টি-শার্টে টেন পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট। তবে শুধু টি-শার্ট না, আরেকটা মজার জিনিস আমরা তোমাদের দেশ থেকে আনি, চলো দেখাই।

তবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছিল শহরের অফিশিয়াল পর্যটক ভবনে। টুকটাক কিছু স্যুভেনির কিনতে ভবনে ঢুকতেই স্বাগত জানাল হাস্যমুখের এক তরুণী। ঘুরে ঘুরে সে দেখাল সস্তায় এখানে কী দারুণ দারুণ স্যুভেনির পাওয়া যায়। ইঁদুর মার্কা ঘড়ি, কলম থেকে শুরু করে কী নেই। টি-শার্টের প্রতি আমার বরাবরেরই লোভ। হ্যামিলিন লেখা ইঁদুরের ছাপ দেওয়া ধূসর রঙের একটা টি-শার্ট হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখি, দাম প্রায় আকাশছোঁয়া। বাংলাদেশি টাকায় তিন হাজার টাকার কাছাকাছি। সস্তাই বটে! লেবেল ওল্টাতেই দেখলাম সেখানে লেখা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। আমি উত্তেজনায় টি-শার্ট হাতে দৌড়ে গেলাম সেই তরুণীর কাছে। বললাম, দেখো দেখো, তোমাদের এই টি-শার্ট তো আমাদের দেশেই তৈরি। মেয়েটি লেবেল উল্টে দেশের নাম দেখে বলল, আরে, তোমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছ? সে তো অনেক দূর। যাও তোমাদের জন্য এই টি-শার্টে টেন পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট। তবে শুধু টি-শার্ট না, আরেকটা মজার জিনিস আমরা তোমাদের দেশ থেকে আনি, চলো দেখাই।

DSC01751

বাঁশিওলা সাজে আমি

এরপর কী দেখলাম সেটা বিশ্বাস করা একটু কঠিন। খোদ বাঁশিওয়ালার শহরে যে বাঁশিটি তারা অফিশিয়াল হ্যামিলিনের বাঁশি বলে বিক্রি করে, সেই বাঁশিটি দেখাল মেয়েটি। দোকানের একটা বিশাল তাক ভর্তি করে রাখা আমাদের পয়লা বৈশাখের মেলায় বাঁশের তৈরি যে কাঁচা হাতে রং করা বাঁশিগুলো বাচ্চাকাচ্চাদের হাতে শোভা পায় সেগুলোতে। এগুলোই নাকি সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে এখন হ্যামিলিনের বাঁশি। সুন্দর করে লেখা মেড ইন বাংলাদেশ। বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে আমি আর মারুফ দুটো বাঁশি তুলে নিয়ে ঠেঁাটে চেপে ফুঁ দিলাম। যে আওয়াজ বেরোল তাতে ওই তরুণী খুশিতে হাততালি দিয়ে বলল, একদম নিখুঁত বাজিয়েছ তোমরা, কীভাবে পারলে? ছোট্ট করে একটু হেসে বললাম, আমাদের দেশের প্রতিটি শিশুই বাংলা বছরের শুরুতে এই বাঁশি বাজিয়ে বড় হয়। আমি বাঁশিতে আরেকটা ফুঁ দিয়ে বললাম, আর বাঁশিটা যেহেতু আমাদের দেশের, তাই কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে, ৭২৯ বছর আগে আমাদের দেশেরই কোনো এক বাঁশিওয়ালা এখানে এসে তোমাদের মেয়রের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক কাণ্ড ঘটিয়ে গেছে। শহরটা হ্যামিলিন, বাঁশিওয়ালা বাংলাদেশি।

তাহলে গল্পের নামটা হওয়া উচিত ছিল কী? মেয়েটা আমার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে বলে, পাইড পাইপার অব বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা।

প্রথম প্রকাশ: প্রথম আলোর বিশেষ প্রকাশনা ‘ঈদ উপহার’ (১৫ জুলাই ২০১৫)

Advertisements